Dhaka , বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিলেন ৫০ সাংবাদিক লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট লক্ষ্মীপুরে লঞ্চ ঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ তার লোক জনের ওপর হামলার অভিযোগ আহত-৫ নুরুল্লাপুরে মাদ্রাসার জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ শিপনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর বিশাল শোভাযাত্রা লক্ষ্মীপুরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা  ৬টি প্রকল্পের ৩৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী লক্ষ্মীপুরে শহীদের নামে চত্বর নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি,প্রতিবাদে বিক্ষোভ মানববন্ধন,  লক্ষ্মীপুরে এসআই শাহ আলমকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ

সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর দেশে আসেননি, ফিরলেন লাশ হয়ে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩
  • ২১১ Time View

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর আগে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন আলমগীর হোসেন আকন্দ (৪৮)। স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একবারের জন্যও দেশে আসা হয়নি তাঁর। পাঁচ বছর পর তিনি দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে।

আলমগীর হোসেন আকন্দের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামারপাথুরিয়া গ্রামে। সংসারে স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। সন্তানদের মধ্যে হাসান আকন্দ স্নাতক ও অন্য সন্তানেরা মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা করে। বাবার পাঠানো টাকায় সংসার ও পড়ালেখার খরচ চলত তাঁদের।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন মালয়েশিয়ায় হিট স্ট্রোকে মারা যান আলমগীর। মালয়েশিয়ায় কর্মরত সহকর্মীদের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছিল আলমগীরের পরিবার। লাশ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা। মৃত্যুর ২৩ দিন পর একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলমগীরের স্ত্রী সামসুন্নাহার (৪২) বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার তাঁদের। সংসারে সচ্ছলতা ও ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন ছেলের বাবা। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। তাঁর পাঠানো টাকায় সংসার ও পড়ালেখার খরচ চলত। তাঁর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এখন সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ।

আলমগীরের বড় ছেলে হাসান আকন্দ বলেন, বাবা বিদেশে চলে যাওয়ার পর মুঠোফোনে মাঝেমধ্যে কথা বলতেন। ভালো করে পড়ালেখা করার উপদেশ দিতেন। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও দেশে ফেরেননি। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আক্ষেপ ছিল। বাবা কোরবানি ঈদে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তাঁর আগে রোজার ঈদে বাবার মৃত্যু হলো। বাবার মৃত্যুতে ছোট দুই ভাই–বোন ভেঙে পড়েছে। মা–ও শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, আলমগীরের লাশ বাড়িতে আনার পর স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি থামছে না। স্বজনদের সহায়তায় স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
About Author Information

Happy Times

লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিলেন ৫০ সাংবাদিক

সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর দেশে আসেননি, ফিরলেন লাশ হয়ে

Update Time : ১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর আগে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন আলমগীর হোসেন আকন্দ (৪৮)। স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একবারের জন্যও দেশে আসা হয়নি তাঁর। পাঁচ বছর পর তিনি দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে।

আলমগীর হোসেন আকন্দের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামারপাথুরিয়া গ্রামে। সংসারে স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। সন্তানদের মধ্যে হাসান আকন্দ স্নাতক ও অন্য সন্তানেরা মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা করে। বাবার পাঠানো টাকায় সংসার ও পড়ালেখার খরচ চলত তাঁদের।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন মালয়েশিয়ায় হিট স্ট্রোকে মারা যান আলমগীর। মালয়েশিয়ায় কর্মরত সহকর্মীদের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছিল আলমগীরের পরিবার। লাশ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা। মৃত্যুর ২৩ দিন পর একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলমগীরের স্ত্রী সামসুন্নাহার (৪২) বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার তাঁদের। সংসারে সচ্ছলতা ও ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন ছেলের বাবা। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। তাঁর পাঠানো টাকায় সংসার ও পড়ালেখার খরচ চলত। তাঁর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এখন সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ।

আলমগীরের বড় ছেলে হাসান আকন্দ বলেন, বাবা বিদেশে চলে যাওয়ার পর মুঠোফোনে মাঝেমধ্যে কথা বলতেন। ভালো করে পড়ালেখা করার উপদেশ দিতেন। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও দেশে ফেরেননি। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আক্ষেপ ছিল। বাবা কোরবানি ঈদে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তাঁর আগে রোজার ঈদে বাবার মৃত্যু হলো। বাবার মৃত্যুতে ছোট দুই ভাই–বোন ভেঙে পড়েছে। মা–ও শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, আলমগীরের লাশ বাড়িতে আনার পর স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি থামছে না। স্বজনদের সহায়তায় স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।