Dhaka , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর রামগতিতে বাদশা ডাকাতের আতঙ্কে এলাকাবাসি উত্তর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা সুবর্ণচর রাব্বানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ নোয়াখালী ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার লক্ষ্মীপুর জেলা বাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাজারুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনময় সুবর্ণচরে খাস জমিতে অবৈধ দোকান,গুড়িয়ে দিলেন প্রশাসন লক্ষ্মীপুরে দুধের শিশু নিয়ে মা কারাগারে, জেলগেটে অপেক্ষায় অন্য ২ সন্তান

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতার কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ২৩৭ Time View

কবির হোসেন রাকিব কমলনগর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর কমলনগর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
​​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, তার মাধ্যমে খুব সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে। তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয়রা:শিশু ভাতার জন্য: ৪,০০০ টাকা বয়স্ক ভাতার জন্য: ৪,০০০ টাকা ​মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য: ৫,০০০ টাকা টয়লেট নির্মাণের জন্য: ১,৫০০ টাকা করে তার হাতে তুলে দেন।
​​ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাত-আট মাস পার হয়ে গেলেও কেউ কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। উল্টো পাওনা টাকা ফেরত চাইলে লিমা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন।
​ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অনেক লোভ দেখিয়ে লিমা গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
​এই ঘটনায় রামগতি উপজেলার পূর্ব চর সীতা গ্রামের মনির আহমেদের মেয়ে শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন (সিআর মামলা নং- ১০২, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬ ইং)। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে বাঁচাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক লিমাও আদালতে একটি পাল্টা ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করেছেন।
​অভিযুক্ত লিমার ছোট ভাই তানভীর হোসেন ও বড় ভাই তারেক হোসেন শুরুতে ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুই মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তারা দাবি করছেন, তাদের বোন নিজেও কোনো এক পক্ষের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
​​মূল অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

Tag :
About Author Information

Sagor Ahmed

আলোচিত

লক্ষ্মীপুরে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতার কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

Update Time : ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

কবির হোসেন রাকিব কমলনগর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর কমলনগর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
​​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, তার মাধ্যমে খুব সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে। তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয়রা:শিশু ভাতার জন্য: ৪,০০০ টাকা বয়স্ক ভাতার জন্য: ৪,০০০ টাকা ​মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য: ৫,০০০ টাকা টয়লেট নির্মাণের জন্য: ১,৫০০ টাকা করে তার হাতে তুলে দেন।
​​ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাত-আট মাস পার হয়ে গেলেও কেউ কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। উল্টো পাওনা টাকা ফেরত চাইলে লিমা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন।
​ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অনেক লোভ দেখিয়ে লিমা গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
​এই ঘটনায় রামগতি উপজেলার পূর্ব চর সীতা গ্রামের মনির আহমেদের মেয়ে শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন (সিআর মামলা নং- ১০২, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬ ইং)। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে বাঁচাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক লিমাও আদালতে একটি পাল্টা ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করেছেন।
​অভিযুক্ত লিমার ছোট ভাই তানভীর হোসেন ও বড় ভাই তারেক হোসেন শুরুতে ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুই মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তারা দাবি করছেন, তাদের বোন নিজেও কোনো এক পক্ষের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
​​মূল অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।