কমলনগর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ব্যাপকহারে বেড়েছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ উৎপাত। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম আকার ধারণ করছে। চুরি-ডাকাতি,ধর্ষণ , মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড যেন বেড়েই চলছে। কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড। প্রতিরাতে উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি-ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিরীহ মানুষগুলো।
সুত্র জানায়, উপজেলার চরকাদিরা, হাজিরহাট, চরফলকন, পাটারিরহাট, চরকালকিনি, চরমার্টিন, সাহেবেরহাট ও তোরাবগন্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চলছে একের পর চলছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এসব অপরাধ ধমনে পুলিশ সম্পুর্ন ব্যর্থ হচ্ছে। চোরের দল সন্ধা হলেও মানুষের বসত বাড়িতে হানা দিচ্ছে। সন্ধার পর থেকে সারারাত ধরে উপজেলার বিভিন্ন বসতবাড়িতে চুরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। বসতবাড়ির পানির কল, মটর, শাড়ি কাপড় কোন কিছুই বাদ যাচ্ছেনা চোরের হাত থেকে। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চলছে কিশোরগ্যাংয়ের মহড়া। অধিকাংশ চুরি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের অভিযান ও মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করাই সাধারণ মানুষ ভয়ে রয়েছেন। আবার কয়েকটি চুরি ডাকাতির ঘটনায় অভিযোগ নিলেও পুলিশ আসামি ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে চোরের দল। এতে থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে কমলনগর থানার বর্তমান ওসি মোঃ ফরিদুল আলম এ থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হচ্ছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতো খারাপ ছিলনা।
সুত্রমতে, গত ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের ফজুমিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন কারী অজি উল্লার বাড়িতে চোরের দল হানা দেয়। এসময় মাওলানা মোঃ ইসমাইলের বসতঘরে ঢুকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
১০ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরলরেন্স বাজারে এক রাতে দুই দোকানে ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ফুটেজ দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করলেও পুলিশ আসামি ধরতে ব্যার্থ হন। এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল চরলরেন্স বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের কড়া সমালোচনা করেন। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ওয়ালি উদ্দীন মাসুদের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সরকারী পুকুরপাড় এলাকার প্রবাসী মহিন উদ্দিনের ঘরের স্বর্ণালংকারসহ ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়।
এদিকে উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন হাওলাদারের পুরান বাড়ির দরজায় পোলের গোড়া নামক স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের ৪-৫ টি গ্রুপ ওই স্থানকে নিরাপদ মনে করে দিনের বেলা মাদক সেবন, মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে গেমস খেলা ও রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাড়িতে চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরা সংঘবদ্ধ হয়ে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার পথে ইভটিজিং করারও অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের মুল হোতা হিসেবে রয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরজাঙ্গালিয়া গ্রামের আজুমিয়াগো বাড়ির হারুনের ছেলে মোঃ রাকিব। তার সহযোগী হিসেবে আছেন-একই বাড়ির বেলালের ছেলে ইয়াসিন, চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের ফজুমিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন তালতলীর বাড়ির মৃত নজুল হকের ছেলে রাজু, ওই বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে পারভেজ, মৃত ইসরাফিল সরদার ছেলে মারুফ সহ ৩০-৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
সুত্রমতে এ চক্রটি কারী অজি উল্লার বাড়ির দরজায় ২ টি চায়ের দোকানে সারারাত ব্যাপী আড্ডায় মেতে উঠে। মাদকাসক্ত, কিশোর গ্যাংচক্র ও উঠতি বয়সের তরুণদের কয়েকটি গ্রুপ তৈরী করে সারারাত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলা সহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়।
সবমিলিয়ে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৮১টি ওয়ার্ডের অলিগলিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোরগ্যাংচক্র। এরা সংঘবদ্ধ হয়ে গভীর রাতে মানুষের গরু চুরি থেকে শুরু করে বসতবাড়িতে হানা দিচ্ছে। চুরির ঘটনার বেশীরভাগ রয়েছে অধরা । চুরি ডাকাতির মামলায় আসামী গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। এতে দিনদিন মানুষের মধ্যে আতংক ও উৎকন্ঠা বেড়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে চরবসু এলাকার পারভেজ কামাল বলেন, যে ভাবে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে, তাতে আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। চুরির পাশাপাশি ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও ঘটছে। কমলনগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হয়না। পুলিশকে জনগণের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।
চরমার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, মানুষের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই, যেভাবে গণহারে চুরি ডাকাতি হচ্ছে-থানা পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। চুরি ডাকাতির পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও শুনতেছি । আমরা মেয়েদের নিয়ে চিন্তিত রয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গ্রাম পুলিশ দিয়ে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছি। চুরি ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় বার বার বলছি। এরপরেও কোন ভাবেই চুরি ডাকাতি বন্ধ করা যাচ্ছেনা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রচুর সমালোচনা করছে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, চুরি ডাকাতি হচ্ছে মর্মে আপনারা লিখে দেন। কোন সমস্যা নেই।


Reporter Name 









