Dhaka , সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে লঞ্চ ঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ তার লোক জনের ওপর হামলার অভিযোগ আহত-৫ নুরুল্লাপুরে মাদ্রাসার জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ শিপনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর বিশাল শোভাযাত্রা লক্ষ্মীপুরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা  ৬টি প্রকল্পের ৩৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী লক্ষ্মীপুরে শহীদের নামে চত্বর নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি,প্রতিবাদে বিক্ষোভ মানববন্ধন,  লক্ষ্মীপুরে এসআই শাহ আলমকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ লক্ষ্মীপুরে প্রাণঘাতী ড্রাম্প ট্রাক নিয়ন্ত্রণে তরুণ উদ্যোক্তা সভাপতি জনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অর্থ আত্মসাৎ প্রকৌশলীসহ ৩৯ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

লক্ষ্মীপুরে আ. লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করছে দুর্বত্তরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১০৯ Time View

  নিজস্ব প্রতিনিধি:  ক্ষ্মীপুরে আ. লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ হাসপাতালে নুর আলমের নিথর দেহ।

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে নুর আলম (৬০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জন্য খোকন নামে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীকে দায়ী করেছেন নিহতের পরিবার।
নুর আলমের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

তিনি পাঁচপাড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবারের লোকজন। বাড়ির পাশের একটি দোকানে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করতেন তিনি।দু ই মেয়ে ও এক ছেলের জনক নুর আলম।

নিহতের ছেলে আরিফ হোসেন  বলেন, সন্ধ্যার পর আমার বাবা ঘরে ছিলেন।

তার ফোনে একটি কল আসে, লোকজন তাকে মারতে আসছেন। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই আমাদের ঘরের পেছনে হামলাকারীরা তাকে আক্রমণ করেন। তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান। সেখান থেকে তুলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আমার বাবা তাদের বলেছিলেন ‌‌‘আমাকে মেরো না, তুলে নিয়ে যাও’। তারপরও তারা আমার বাবাকে মেরে ফেললেন।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার বাবাকে মারতে দেখি। আমাকে হামলাকারী দুইজন ধরে রেখেছিল। আমি তাদের হাত থেকে ছুটে পুকুরের অন্য পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিই। আমার মা মমতাজ বেগম হামলাকারীদের পায়ে ধরে ছিলেন। যাতে আমার বাবাকে না মারার জন্য। কিন্তু কেউ কোনো কথা শোনেননি। বাবাকে হত্যা করেছে। আমার মাকেও মারধর করা হয়েছে।

আরিফ জানান, হামলার পর প্রথমে তার বাবাকে চন্দ্রগঞ্জের একটি হাসপাতালে, পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি দাবি করেন, আমাদের ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকন নামের একজনকে আমি চিনেছি, যিনি হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তার সাথে আরও ১০/১২ জন ছিল। খোকন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও কারো ক্ষতি করেননি।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা ভিকটিমকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাইনি। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক  বলেন, একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ সদর হাসপাতালে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sagor Ahmed

লক্ষ্মীপুরে লঞ্চ ঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ তার লোক জনের ওপর হামলার অভিযোগ আহত-৫

লক্ষ্মীপুরে আ. লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করছে দুর্বত্তরা

Update Time : ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

  নিজস্ব প্রতিনিধি:  ক্ষ্মীপুরে আ. লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ হাসপাতালে নুর আলমের নিথর দেহ।

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে নুর আলম (৬০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জন্য খোকন নামে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীকে দায়ী করেছেন নিহতের পরিবার।
নুর আলমের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

তিনি পাঁচপাড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবারের লোকজন। বাড়ির পাশের একটি দোকানে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করতেন তিনি।দু ই মেয়ে ও এক ছেলের জনক নুর আলম।

নিহতের ছেলে আরিফ হোসেন  বলেন, সন্ধ্যার পর আমার বাবা ঘরে ছিলেন।

তার ফোনে একটি কল আসে, লোকজন তাকে মারতে আসছেন। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই আমাদের ঘরের পেছনে হামলাকারীরা তাকে আক্রমণ করেন। তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান। সেখান থেকে তুলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আমার বাবা তাদের বলেছিলেন ‌‌‘আমাকে মেরো না, তুলে নিয়ে যাও’। তারপরও তারা আমার বাবাকে মেরে ফেললেন।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার বাবাকে মারতে দেখি। আমাকে হামলাকারী দুইজন ধরে রেখেছিল। আমি তাদের হাত থেকে ছুটে পুকুরের অন্য পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিই। আমার মা মমতাজ বেগম হামলাকারীদের পায়ে ধরে ছিলেন। যাতে আমার বাবাকে না মারার জন্য। কিন্তু কেউ কোনো কথা শোনেননি। বাবাকে হত্যা করেছে। আমার মাকেও মারধর করা হয়েছে।

আরিফ জানান, হামলার পর প্রথমে তার বাবাকে চন্দ্রগঞ্জের একটি হাসপাতালে, পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি দাবি করেন, আমাদের ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকন নামের একজনকে আমি চিনেছি, যিনি হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তার সাথে আরও ১০/১২ জন ছিল। খোকন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও কারো ক্ষতি করেননি।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা ভিকটিমকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাইনি। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক  বলেন, একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ সদর হাসপাতালে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।