Dhaka , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খাল দখলমুক্ত ও বর্জ্যমুক্ত করার আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি প্রধানমন্ত্রী তার প্ল্যান বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা লক্ষ্মীপুরে ৫ টাকা নিয়ে বিরোধ: প্রবাসী ভাইকে পিটিয়ে হত্যার করলো আপন বড় ভাই ১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার নির্মাণ কাজে বাধা-হয়রানির অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হলেন লক্ষ্মীপুরে কৃতি সন্তান এ্যানি লক্ষ্মীপুরের ৪ আসনেই বিএনপির জয় লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিলেন ৫০ সাংবাদিক লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট

লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হলেন সদর মেডল থানার এএসআই ইলিয়াছ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
  • ১২১ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে স্বামী মো: মিলন হোসেনকে (৬০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে (৫১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালত। একই সাথে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: রহিবুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জাহানারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদি তাদের ছেলে মোঃ সাফায়েত হোসেন ওরফে মাহবুব (২১)। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাগুড়িয়া গ্রামে তাদের বাড়ি।

মামলা ও আদালত সূত্র জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ভোরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে সুপারী গাছের সাথে হাতবাঁধা অবস্থায় মিলনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন মিলনের ছেলে সাফায়েত হোসেন বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত মিলনের স্ত্রী জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে তিনি স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, স্বামী মিলনের সাথে তার ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবন চলমান ছিল। তাদের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। বিয়ের পর থেকেই মিলন অস্বাভাবিক আচরণ করেতো। খিটখিটে স্বভাবের স্বামী মিলন বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করতো। এছাড়া সংসারে মনযোগী না হয়ে নিজের মনমতো চলতো। এ নিয়ে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। ঘটনার সময় রমজান মাস ছিল। রমজানের শেষ ১০ দিন স্ত্রী জাহানারা তার স্বামী মিলনকে মসজিদে ইতেফাকে বসতে বলে। এতে সে স্ত্রীকে গালমন্দ করে। ঘটনার রাতে জাহানারা বেগম তার স্বামীকে ঘরের পেছনের একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে সুপারী গাছের সাথে গরু বাঁধার রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। পরে একটি প্লাষ্টিকের রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহ বাগানে ফেলে রাখে। পরদিন সকালে জাহানারা নিজেই পরিবারের সদস্যদেরকে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ জানায় ও দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন।

পরে পুলিশের কাছে তার আচরণ সন্দেহজনক হলে জিজ্ঞাসবাদে পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। ২০২২ সালের ১৫ জুন জাহানারা বেগমকে স্বামী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ আদালেতে মামলার চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে ঘটনার ১৩ মাসের মধ্যে জাহানারা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Tag :
About Author Information

Sagor Ahmed

খাল দখলমুক্ত ও বর্জ্যমুক্ত করার আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হলেন সদর মেডল থানার এএসআই ইলিয়াছ

Update Time : ০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে স্বামী মো: মিলন হোসেনকে (৬০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে (৫১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালত। একই সাথে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: রহিবুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জাহানারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদি তাদের ছেলে মোঃ সাফায়েত হোসেন ওরফে মাহবুব (২১)। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাগুড়িয়া গ্রামে তাদের বাড়ি।

মামলা ও আদালত সূত্র জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ভোরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে সুপারী গাছের সাথে হাতবাঁধা অবস্থায় মিলনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন মিলনের ছেলে সাফায়েত হোসেন বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত মিলনের স্ত্রী জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে তিনি স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, স্বামী মিলনের সাথে তার ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবন চলমান ছিল। তাদের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। বিয়ের পর থেকেই মিলন অস্বাভাবিক আচরণ করেতো। খিটখিটে স্বভাবের স্বামী মিলন বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করতো। এছাড়া সংসারে মনযোগী না হয়ে নিজের মনমতো চলতো। এ নিয়ে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। ঘটনার সময় রমজান মাস ছিল। রমজানের শেষ ১০ দিন স্ত্রী জাহানারা তার স্বামী মিলনকে মসজিদে ইতেফাকে বসতে বলে। এতে সে স্ত্রীকে গালমন্দ করে। ঘটনার রাতে জাহানারা বেগম তার স্বামীকে ঘরের পেছনের একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে সুপারী গাছের সাথে গরু বাঁধার রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। পরে একটি প্লাষ্টিকের রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহ বাগানে ফেলে রাখে। পরদিন সকালে জাহানারা নিজেই পরিবারের সদস্যদেরকে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ জানায় ও দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন।

পরে পুলিশের কাছে তার আচরণ সন্দেহজনক হলে জিজ্ঞাসবাদে পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। ২০২২ সালের ১৫ জুন জাহানারা বেগমকে স্বামী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ আদালেতে মামলার চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে ঘটনার ১৩ মাসের মধ্যে জাহানারা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।