Dhaka , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর রামগতিতে বাদশা ডাকাতের আতঙ্কে এলাকাবাসি উত্তর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা সুবর্ণচর রাব্বানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ নোয়াখালী ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার লক্ষ্মীপুর জেলা বাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাজারুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনময় সুবর্ণচরে খাস জমিতে অবৈধ দোকান,গুড়িয়ে দিলেন প্রশাসন লক্ষ্মীপুরে দুধের শিশু নিয়ে মা কারাগারে, জেলগেটে অপেক্ষায় অন্য ২ সন্তান

লক্ষ্মীপুরে গলা কেটে মেয়েকে হত্যা পুকুরে ফেলে দিল বাবা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২৩ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ফারিহা সুলতানা নামের ৫ বছরের এক শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে মাদকাসক্ত বাবা। ঘটনার পর পরই পুকুর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে শিশুটির বাবা ফারুককে (২৪) আটক করে স্থানীয়রা।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা ঘাতক ফারুককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ফারুক দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামের কাদের মাঝির ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ও দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মাদক সেবন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরে সকালে তার স্ত্রী কুসুম আক্তার বড় মেয়ে ফারিহা সুলতানাকে দাদা-দাদীর কাছে রেখে তিন বছরের আরেক শিশু কন্যা ফাইজাকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কুশাখালী ইউনিয়নের নুর খাঁ গ্রামে বাবার বাড়িতে যান।

বিকেলে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত ফারুক দা দিয়ে ফারিহার গলা কেটে তাকে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ফারিহা সুলতানার মা কুসুম আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবার বাড়িতে যাওয়া সময় ফারিহাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার দাদা-দাদি তাকে আমার সঙ্গে যেতে দেয়নি। তাকে যেতে দিলে আজ মেয়েটাকে মরতে হত না।’ এই কথা বলেই কান্নায় মূর্ছা যান তিনি।

তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে হত্যার পর ফারুক ঘরের ভেতর দা হাতে অবস্থান করছিল। এসময় সে সবাইকে ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় জনতা ঘাতক ফারুককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।’

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘাতক ফারুককে আটক করা হয়েছে। সে মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Sagor Ahmed

আলোচিত

লক্ষ্মীপুরে সরকারি কবরস্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে গলা কেটে মেয়েকে হত্যা পুকুরে ফেলে দিল বাবা!

Update Time : ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ফারিহা সুলতানা নামের ৫ বছরের এক শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে মাদকাসক্ত বাবা। ঘটনার পর পরই পুকুর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে শিশুটির বাবা ফারুককে (২৪) আটক করে স্থানীয়রা।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা ঘাতক ফারুককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ফারুক দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামের কাদের মাঝির ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ও দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মাদক সেবন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরে সকালে তার স্ত্রী কুসুম আক্তার বড় মেয়ে ফারিহা সুলতানাকে দাদা-দাদীর কাছে রেখে তিন বছরের আরেক শিশু কন্যা ফাইজাকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কুশাখালী ইউনিয়নের নুর খাঁ গ্রামে বাবার বাড়িতে যান।

বিকেলে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত ফারুক দা দিয়ে ফারিহার গলা কেটে তাকে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ফারিহা সুলতানার মা কুসুম আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবার বাড়িতে যাওয়া সময় ফারিহাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার দাদা-দাদি তাকে আমার সঙ্গে যেতে দেয়নি। তাকে যেতে দিলে আজ মেয়েটাকে মরতে হত না।’ এই কথা বলেই কান্নায় মূর্ছা যান তিনি।

তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে হত্যার পর ফারুক ঘরের ভেতর দা হাতে অবস্থান করছিল। এসময় সে সবাইকে ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় জনতা ঘাতক ফারুককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।’

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘাতক ফারুককে আটক করা হয়েছে। সে মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।