নূর মোহাম্মদঃ বিয়ে একটি সামাজিক ও পবিত্র বন্ধন। এই বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুইজন নরনারী জীবন সাজায় – সাজায় তাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এই বিয়েকে পুঁজি করে তাসলিমা আক্তার মিতু নামের ১৯ বছর বয়সী এক ছলনাময়ী নারী হাতিয়ে নিচ্ছে কষ্টার্জিত টাকা পয়সা স্বর্ণ গয়নাসহ সবকিছুই। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ৩ বিয়ে করা শেষ তাসলিমা আক্তার মিতু। তাসলিমা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ১৮ চরশাহী ইউনিয়নে জালিয়াকান্দি হাজী বাড়ির সৈয়দ মাঝির মেয়ে।
মাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের তালিবপুর গ্রামের শের বাড়ির মৃত মফিজ মেস্তুরীর ছেলে মালেশিয়া প্রবাসী বাচ্চু মিয়াকে মোবাইলে বিয়ে করে। বিয়ের পরে যখন তখন টাকা দাবী করতো তাছলিমা। বউয়ের মিষ্টি কথায় নিজের কষ্টার্জিত টাকা পাঠাতে থাকে বাচ্চু। কিন্তু স্বামীকে প্রবাসে রেখেই চলে তাছলিমার অবৈধ প্রেম প্রেম খেলা। এ বিষয়ে জানতে পেরে মালয়েশিয়া থেকে ছুটে এসে বউকে ঘরে তুলে নেয় বাচ্চু। কিন্তু বাসর ঘরেই চলে স্বামীর সাথে লুকোচুরি। সবশেষে বাচ্চুর স্বর্ণ গয়না, টাকা পয়শা আত্মসাৎ করে ডিবোর্স দেয় তাসলিমা। আর এসব অবৈধ কাজে তাসলিমাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে তার ভাই হৃদয় ও অন্তরের বিরুদ্ধে।এরপর তাসলিমার দ্বিতীয় শিকার ওমান প্রবাসি চরশাহী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের লালমিয়ার বাড়ীর মৃত ইউসুফের ছেলে ওমান প্রবাসী জাবেদ। ২০২৪ সালে জাবেদ তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে দুইমাস সংসার করে জীবিকার তাগিদে আবারও ওমানে চলে যায়। সেই সুযোগে তাসলিমা তার পরকিয়া প্রেমিক দাসের হাটের ফাহিমের সাথে অবৈধ ভাবে মিলামিশা করতে থাকে। গোপনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে জাবেদকে কোর্ট এফিডেবিট করে তালাক দিলেও জাবেদের খালি ঘরে চলতে থাকে তাসলিমার অবৈধ প্রেমলিলা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে জাবেদ ওমান থেকে দেশে আসার কথা শুনে জাবেদের টাকা পয়শা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ফাহিমের সাথে পালিয়ে যায় তাসলিমা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীরা জানান, প্রবাসি ছেলেরা সরল বিশ্বাসে তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছে। কিন্তু তাদের সবকিছু প্রতারণা করে নিয়ে যায় এই নষ্ট মেয়ে। আর তাকে ইন্ধন দেয় তার পরিবারের লোকজন। আমরা এই নষ্ট মেয়ের বিচার চাই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তাসলিমার প্রথম স্বামী বাচ্চু বলেন, আমার ৭ বছরের প্রবাসের আয় এই মেয়ে ও তার পরিবার ভোগ করছে। আমার সবকিছু নিয়ে আমাকে উল্টো তালাক দেয়। এখন আবার আমার বিরুদ্ধে যৌতুকের সাজানো মামলা করে, কাবিনের টাকার জন্য সন্ত্রাস ধরে। এই জুলুমের বিচার আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দিলাম।
দ্বিতীয় স্বামী জাবেদ জানান, বন্যার ভিতরে ছুটি কম থাকায় আমার অসুস্থ্য মা বাবার দিকে তাকিয়ে তাকে বিয়ে করি। আমি প্রবাসে থাকার সুযোগে সে তার পরকিয়া প্রেমিকের সাথে অবৈধ ভাবে মিলামিশা করতে থাকে। আমার দেশে আসার খবর শুনে সে তাড়াতাড়ি আমার সবকিছু নিয়ে চলে যায়। আমি প্রশাসনের কাছে এই মেয়ের বিচার চাই। এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিগণ মনে করে এই ধরনের মেয়ে ও তার পরিবারের উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার। তানাহলে বিয়ের মত পবিত্র বিষয় নিয়ে নষ্ট মেয়েদের কাবিন বাণিজ্য চলতেই থাকবে, সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে থাকবে সহজ সরল প্রবাসীরা। এ বিষয়ে তাসলিমার বাবা সৈয়দ মাঝি জানান, আমার মেয়ে কোথায় আছে জানিনা। জাবেদ বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করবো।


Reporter Name 










