Dhaka , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শহিদদের রক্তের বদলা নিতে ‘যে অঙ্গীকার’ করলেন শিবির সভাপতি আ.লীগ নিষিদ্ধে সরকার একা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না : মাহফুজ আলম বাংলাদেশেকে নিয়ে একটা গভীর চক্রান্ত চলছে: এ্যানি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রই আর টিকবে না : ফয়েজ আহম্মদ লক্ষ্মীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিশু গুলিবিদ্ধ চুরির অপবাদে শ্রমিকদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪ বিগত ১৬/১৭ বছর খুশি মনে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব হয়নি-খায়ের ভুঁইয়া বিগত ১৬/১৭ বছর খুশি মনে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব হয়নি-খায়ের ভুঁইয়া লক্ষ্মীপুর জেলা বাসিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত নেতা-নুর নবী  এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে গণতন্ত্রের ভিত হবে শক্তিশালী: এ্যানি

লক্ষ্মীপুরে আশ্রয়কেন্দ্রের ভবনটি  গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে !

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩
  • ২০৬ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবন হাজিরহাট হামেদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভবন নিলাম দেয়ার জন্য পত্রিকায় প্রকাশ করতে হয়, তা না করে গোপনে অত্র মাদ্রাসার সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনকে আহবায়ক করে একটি কমিটি করে গোপনে বিক্রি করে দেয়।

বহুতল এ ভবন প্রকাশ্যে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হেঁটেছেন উল্টো পথে। কোনো রকম দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সম্প্রতি ভবনটি জাহান ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা পরিবারের সদস্য এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা টিম লিডার সামছুদ্দোহা খোকন জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সামছুদ্দোহা খোকন নিজেই। এর আগে মঙ্গলবার তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ১৯৭৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলাবিশিষ্ট ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকে ভবনটি হাজিরহাট হামেদিয়া কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করে আসছিল। ২০০৭ সালে রামগতি উপজেলাকে ভেঙে কমলনগর উপজেলা ঘোষণার পর ভবনটি উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে কয়েক বছর ব্যবহার হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সুযোগে গত মাসে ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা প্রকাশ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার আয়োজন না করে ভবনটি মাত্র ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় গোপনে বিক্রি করে দেয়। অথচ প্রকাশ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার আয়োজন করলে ভবনটির আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেত। এদিকে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে জমা দিয়েছেন।

সামছুদ্দোহা খোকন বলেন, ’মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনটি গোপনে বিক্রি করেছেন। আর এ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই তিনি মাদ্রাসার তহবিলে জমা নিয়েছেন। যে কারণে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ভবনটি প্রকাশ্যে নিলামের দাবি করছি। তিনি আরও বলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনের যোগসাজশে মাদ্রাসার টাকা আত্নসাৎ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন জানান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তারা এ কাজ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ‘সরকারি ভবন নিলামের টাকা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলে জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Tag :
About Author Information

Sagor Ahmed

শহিদদের রক্তের বদলা নিতে ‘যে অঙ্গীকার’ করলেন শিবির সভাপতি

লক্ষ্মীপুরে আশ্রয়কেন্দ্রের ভবনটি  গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে !

Update Time : ১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবন হাজিরহাট হামেদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভবন নিলাম দেয়ার জন্য পত্রিকায় প্রকাশ করতে হয়, তা না করে গোপনে অত্র মাদ্রাসার সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনকে আহবায়ক করে একটি কমিটি করে গোপনে বিক্রি করে দেয়।

বহুতল এ ভবন প্রকাশ্যে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হেঁটেছেন উল্টো পথে। কোনো রকম দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সম্প্রতি ভবনটি জাহান ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা পরিবারের সদস্য এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা টিম লিডার সামছুদ্দোহা খোকন জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সামছুদ্দোহা খোকন নিজেই। এর আগে মঙ্গলবার তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ১৯৭৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলাবিশিষ্ট ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকে ভবনটি হাজিরহাট হামেদিয়া কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করে আসছিল। ২০০৭ সালে রামগতি উপজেলাকে ভেঙে কমলনগর উপজেলা ঘোষণার পর ভবনটি উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে কয়েক বছর ব্যবহার হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সুযোগে গত মাসে ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা প্রকাশ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার আয়োজন না করে ভবনটি মাত্র ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় গোপনে বিক্রি করে দেয়। অথচ প্রকাশ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার আয়োজন করলে ভবনটির আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেত। এদিকে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে জমা দিয়েছেন।

সামছুদ্দোহা খোকন বলেন, ’মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনটি গোপনে বিক্রি করেছেন। আর এ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই তিনি মাদ্রাসার তহবিলে জমা নিয়েছেন। যে কারণে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ভবনটি প্রকাশ্যে নিলামের দাবি করছি। তিনি আরও বলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনের যোগসাজশে মাদ্রাসার টাকা আত্নসাৎ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন জানান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তারা এ কাজ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ‘সরকারি ভবন নিলামের টাকা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলে জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’